Posts Tagged ‘বাঙ্গালি’

নাগরিকত্ব বিলে বিএইচআরপিসি সংবিধান ও মানবাধিকার সম্মত সংশোধনী চায়

May 10, 2018

গত ৯ মে ২০১৮ তারিখে বরাক হিউমেন রাইটস প্রটোকশন কমিটি  কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সফররত জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটির কাছে নাগরিকত্ব বিল নিয়ে স্মারকপত্র প্রদান করে। বিএইচআরপিসি মনে করে যে পার্শ্ববর্তী দেশের নির্যাতিত মানুষদের নাগরিকত্ব প্রদান করার সিদ্ধান্ত একটি অত্যন্ত মহান এবং মানবিক  কাজ। কিন্তু সেইসঙ্গে বিএইচআরপিসি এটাও মনে করে যে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিধেয়ক এর বর্তমান খসড়াটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং ভারতীয় সংবিধানের নিরিখে মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আইন পরিণত হলে উচ্চতম ন্যায়ালয়ের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। সুতরাংবিএইচআরপিসিএই বিলে নিম্নলিখিত সংশোধনি আনার পরামর্শ দেয়ঃ

১। এই বিলের ২নং ধারায় আনা সংশোধনীমতে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান এই তিনটি দেশ থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান এই ছয়টি ধর্মের কোন লোক যদি আইনি কাগজপত্র ছাড়াও ভারতে আসেন তবে তাদেরকে বেআইনি অণুপ্রবেশকারি হিসাবে গণ্য করা হবেনা। বিএইচআরপিসির মতে এই ধারা ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি করে সংবিধানের ১৪নং ধারার উলঙ্ঘন করে।

 অতএব ২ ধারার ১ নং উপধারায় একটি সংশোধনি আনতে হবে যে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভূটান, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ এবং মায়ান্মারের যেসব লোক সাম্প্রদায়িক হিংসা বা সেক্টেরিয়ান ভায়োলেন্স (Sectarian Violence)  এর শিকার হয়ে ভারতে এসেছেন তাদেরকে বেআইনি অণুপ্রবেশকারি হিসেবে গণ্য করা হবেনা।

২। ভারতীয় উচ্চতম ন্যায়ালয়ের  লালবাবু হোসেন এবং অন্যান্য বনাম নির্বাচনী নিবন্ধক এই মামলার প্রদত্ত রায়মতে  ধারা ৬(ক) এর ৭ক উপধারায় একটি নতুন বিধান জুড়ে দিতে হবে যে ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদেরকে  ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ধরা হবে।

৩। এরকমই তৃতীয় তালিকার ৩ দফায় একটি বিধান জুড়ে দিতে হবে যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দাবীর পূর্বশর্ত হিসেবে প্রার্থীকে ১১বছরের জায়গায় ৬ মাসের জন্য ভারতে থাকতে হবে কিংবা ভারতে সরকারি চাকুরী করতে হবে।

 এছাড়াও বিএইচআরপিসি মনে করে যে সাম্প্রদায়িক হিংসার শিকার হওয়া লোকদের পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ভারত সরকারের অতিশিঘ্র রাষ্ট্রসংঘের ১৯৬১ সালে গৃহিত রাষ্ট্রহীনতা হ্রাস করা সমন্ধীয় চুক্তিপত্র এবং ১৯৪৮ সালের নিপীড়ন এবং অন্যান্য অমানবিক শাস্তিসমূহের বিরুদ্ধে চুক্তিপত্র সমূহ অনুমোদন বা রেটিফাই করে এগুলিকে আইনের অন্তর্ভূক্ত করা উচিত। অতএব এই বিষয়ে মাননীয় জেপিসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

স্মারকপত্রের পূর্ণপাঠ এখানে দেখুন।

Advertisements