Posts Tagged ‘Bengalis’

 অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও তাঁর হেনস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

July 26, 2018

ড০ তপোধীর ভট্টাচার্যের নিবন্ধ “অসমে বাঙালির শরশয্যা” নিয়ে উদ্ভব হওয়া অগণতান্ত্রিক বিতর্কের অবসান হোক (গণতন্ত্রপ্রিয় সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের যৌথ বিবৃতি)

বরাক উপত্যকার স্বনামধন্য সাহিত্যিক এবং চিন্তাবিদ তপোধীর ভট্টাচার্যের লেখা  “অসমে বাঙালির শরশয্যা” শীর্ষক একটি নিবন্ধ গত ৩/০৭/২০১৮ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক পত্রিকা “আজকাল” এ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তাঁকে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে   বিদ্বেষমূলক প্রচার চালানো হয়েছে। এবং বিগত ৮/৭/২০১৮ তারিখে দিসপুর থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও রুজু করা হয়েছে। আমরা মনে   করি, ভারতীয় সংবিধান মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে মর্যাদা দিয়ে এই অধিকারকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে। এবং সেখানে যে সব সীমাবদ্ধতার উল্লেখ আছে, তপোধীরবাবুর লেখাটি   সেগুলির মধ্যেও পড়ে না। তাছাড়া ড০ ভট্টাচার্য একজন অত্যন্ত নিরপেক্ষ এবং সংবেদনশীল ব্যাক্তি। তিনি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন সময় অনেকের  রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ২০১০ সালে ডিফু  ক্যাম্পাসে  “অসমিয়া বিভাগ” চালু করেন। তার দুটি বই “রঙ ও রেখার বিপ্লবে পাবলো পিকাসো” এবং “আসামের রূপকথা”  অসমিয়া ভাষায় অনুবাদিত হয়েছে। এরকম অবস্থায় তাঁকে আসামের  বিরুদ্ধে “ষড়যন্ত্রকারী” হিসেবে  চিহ্নিতকরণ মোটেই যুক্তিযুক্ত বলে মনে হচ্ছেনা।

fd

  তাছাড়া আসামের বর্তমান পরিস্থিতে এধরনের পদক্ষেপ উসকানি দেওয়ার কাজ করতে পারে। পূর্বেও আসামে ৭০ এবং ৮০র  দশকে বিশ্বাসঘাতক, ষড়যন্ত্রককারী,  বদন, ইত্যাদি নানা নামের তকমা জুড়ে দিয়ে বহুলোককে গুমখুন, মবলিঞ্চিং ও হত্যা করা হয়েছে। শ্রদ্ধেয় সাহিত্যিক চিন্তাবিদ হিরেণ গোঁহাইকেও ৮০’র দশকে অনুরূপ পরিস্থিতিরর সম্মুখীন হতে হয়েছিলো। সুতরাং এরূপ দায়িত্বজ্ঞানহীন অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রুজু করা মামলা সমগ্র আসামকে এক জাতিগত সহিংস পরিস্থিতিরদিকে ঠেলে দিতে পারে। তাছাড়া গত ২১ জুন ২০১৮ তারিখে রাষ্ট্রসংঘের  জাতিগত হিংসার বিরুদ্ধে নিযুক্ত স্পেশাল রেপোর্টিওর(Special Rapporteur)  এবং এর সাথে জড়িত  আরোও কয়েককটি বিষয়ের স্পেশাল রেপোর্টিওররা আসামে এইরকম একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে উদ্বেগ ব্যাক্ত করেছেন এবং এসমন্ধে ভারত সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। অধ্যাপক ভট্টাচার্যের নিবন্ধটিতে রাষ্ট্রসংঘের এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হওয়া কিছু প্রকৃত উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে। তাই নিবন্ধটি মোটেই ভিত্তিহীন নয় এবং কোনোধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারেনা।

 সুতরাং আমরা নিম্নসাক্ষরকারীরা মনে করি, ড০ ভট্টাচার্যের নিবন্ধটি সংবিধান স্বীকৃত বাকস্বাধীনতার বৈধ প্রয়োগ।তাসত্ত্বেও মামলা দায়ের করে আইনের অপপ্রোয়গের মাধ্যমে এই সর্বজনশ্রদ্বেয় ব্যাক্তিত্বকে হেনস্থা করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। অতএব আসাম সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, ড০ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে রুজু করা মামলাটি  অবিলম্বে তুলে নেওয়া হোক।

  স্বাক্ষরকারীঃ

১।  বরাক হিউমন রাইটস প্রোটেকশন কমিটি, শিলচর এর পক্ষে তানিয়া সুলতানা লস্কর।

২। নাগরিকত্ব সমন্বয় কমিটির পক্ষে- কিশোর কুমার ভট্টাচার্য।

৩। ফোরাম ফর সিভিল রাইটস এর পক্ষে শিশির দে।

৪। কোরাস, শিলচর এর পক্ষে বিশ্বজিত দাস।

৫। পিপলস সায়েন্স সোসাইটি, এর পক্ষে কৃশাণু ভট্টাচার্য।

৬। বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের পক্ষে সঞ্জিব দেব লস্কর।

৭। মাইনোরিটিজ ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন নগাঁও এর পক্ষে আসাদুল হক চৌধুরী।

৮। নারী মুক্তি সংস্থা এর পক্ষে সিগ্ধা নাথ।

৯। আসাম নাগরিক মঞ্চ এর পক্ষে বিজয় চক্রবর্তী।

১০। গণসুর এর পক্ষে সুব্রত রায়।

১১। মুক্তমন, শিলচর এর পক্ষে দেবরাজ দাশগুপ্ত।

১২। বৈচিত্র লিটিল ম্যাগাজিন এর পক্ষে আনওয়ারুল হক বড়ভূইয়া।

নাগরিকদের মধ্যে যারা সাইন করেছেন।

  ১। কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, বিধায়ক, নর্থ-করিমগঞ্জ, আসাম। ২। সৌমিত্র দস্তিদার, তথ্যচিত্র নির্মাতা,  পশ্চিমবঙ্গ।  ৩। প্রতিভা সরকার, গল্পকার, সমাজকর্মী, পশ্চিমভঙ্গ। ৪। প্রসেনজিত বিশ্বাস, দর্শন বিভাগ, নেহু, শিলং। ৫। সুকল্পা ভট্টাচার্য, ইংরাজি বিভাগ, নেহু, শিলং। ৬। ড০ সুরঞ্জনা চৌধুরী, ইংরাজি বিভাগ, নেহু, শিলং।  ৭। ড০ পল্লবী চৌধুরী, বিজ্ঞানি, ইন্সটিটিউট অফ সিস্মোলজিকেল রিসার্চ,গান্ধীনগর। ৮। ময়ূরী পুরকায়স্থ, টেক ইন্ডিয়া, পুনে। ৯। সম্রাট সেনগুপ্ত, ইংরাজি বিভাগ, সম্মিলনী। ১০। ডঃ অমিয় দে, রেড লাবান কলেজ, শিলং। ১১। ড০ নবনিতা সেনগুপ্ত, ইঙ্গরাজি বিভাগ, সরশুনা কলেজ, কলকাতা।   ১২। গৌরব সেন, মানবাধিকার কর্মী, কলকাতা। ১৩। দেবস্মিতা কর, ইঙ্গরাজি বিভাগ, বাগবাজার মহিলা কলেজ, কলকাতা।  ১৪। শ্রেয়ণ রায়, সম্পাদক, নিবির। ১৫। অরুণ বিশ্বাস, পরিবেশবিদ। ১৬। ভাস্কর গুপ্ত, অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন, ১৭। কল্যাণ রুদ্র, চেয়ারম্যান, পশ্চিমবঙ্গ পরিবেশ প্রদূষ্পণ নিয়ন্ত্রক বিভাগ।  ৮। রুপশ্রী কাহালি, শিল্পী। ১৯।  সৌভিক কর্মকার, রিসার্চ ফিলো, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।  ২০। রম্যানি চক্রবর্তী, রিসার্চ ফিলো, আইআইটি, গৌহাটি।২১।  নিলাঞ্জনা সিনহা, টিইটো, মুম্বাই। ২২। অশোকেন্দু সেনগুপ্ত, পশ্চিমবঙ্গ। ২৩। দেবদাস বেনার্জী, সমাজকর্মী। ২৪। উজ্বল ভৌমিক, পান্ডু, গৌহাটি। ২৫। রামজ্যোতি ভট্টাচার্য, রিবই, শিলং। ২৬। ডি পি ভট্টাচার্য, সাংবাদিক, গুজরাট। ২৭। অপূর্ব মুক্তকামী, সমাজকর্মী, পশ্চিমবঙ্গ।২৮। সুরজিত রে, নতুন দিল্লী। ২৯। দিপংকর বসু। ৩০। সুপ্রীয় পাল, শিলং।      ৩১। চন্দ্রোদয় দে, ৩২। তমোজিত সাহা, কবি-প্রাবন্ধিক, শিলচর। ৩৩। জয়শ্রী ভূশন, সমাজকর্মী,  শিলচর।  ৩৪। জয়নাল আবেদিন লস্কর, দারুস সালাম মাজমাউল বাহরাইন, শিলডুবি।   ৩৫। অশোকতরু চক্রবর্তী,  রিসার্চ স্কলার,  আই আই টি, খড়গপুর।৩ ৬। মানস দাস, সমাজকর্মী, শিলচর।   ৩৭। সুশান্ত কর, অধ্যাপক,  তিনসুকিয়া কলেজ, তিনসুকিয়া।   ৩৮। চক্রপাণি দেব বর্মণ, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ।        ৩৯। সাবানা মজুমদার, গৃহকর্ত্রী,  শিলচর।  ৪০। পার্থ রঞ্জন চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি কাছাড জেলা কংগ্রেস কমিটি প্রচার বিভাগ।  ৪১। কমল চক্রবর্তী,  সমাজকর্মী,  শিলচর। ৪২। ড০ শম্পা মণ্ডল,  লেকচারার,  সম্মিলনী কলেজ, কলকাতা।   ৪৩। আদিমা মজুমদার, গল্পকার,  শিলচর। ৪৪। ত্বাহা আমিন মজুমদার, হাইলাকান্দী, আসাম। ৪৫। দেবকান্ত দাস, করিমগঞ্জ, আসাম।  ৪৬। দেবরাজ দাসগুপ্ত, শিলচর।  ৪৭। শাখাওয়াত মজুমদার, ক্লাব মুক্তসেনা, শিলচর। ৪৮। সঞ্জীব লস্কর, সোনাই,  আসাম। ৪৯। অরিন্দম চক্রবর্তী, শিল্পী   শিলচর। ৫০। আহমদ হোসাইন লস্কর, ছাত্র, হাইলাকান্দি আসাম।  ৫১। আনছারুল্লাহ তালুকদার, ছাত্র, শিলচর। ৫২। আয়শা মল্লীক, ছাত্রী, কলকাতা। ৫৩। শামীম আরা বড়ভূইয়া, শিক্ষিকা,  উধারবন্ধ, আসাম।  ৫৪। ড০ চার্বাক, অধ্যাপক, আসাম ইউনিভার্সিটি।  ৫৫। আলমআরা বড়ভূইয়া লিনা, বদরপুর, করিমগঞ্জ।  ৫৬। ওয়াহিদুজ্জামান মজুমদার, ছাত্র,হাইলাকান্দি, আসাম।  ৫৭। অধিরত দে, শ্রীরামপুর, পশ্চিমবঙ্গ।  ৫৯। জমিল আহিমেদ লস্কর, শিলচর। ৬০। সোণর আলি, রাতাবাড়ী, করিমগঞ্জ। ৬১। প্রিয়াঙ্কা রায়, শিল্পী, উধারবন্ধ, আসাম।৬২। হিল্লোল ভট্টাচার্য,  সমাজকর্মী, শিলচর।৬৩। প্রদীপ নাথ, শিলচর।  ৬৪। সারওয়ার জাহান লস্কর, ছাত্র, আসাম ইউনিভার্সিটি।৬৫। অলিউল্লাহ লস্কর, আইনজীবী, গৌহাটি হাইকোর্ট।  ৬৬। দেবাশিস চক্রবর্তী,অধ্যাপক, কাছাড় কলেজ, শিলচর।৬৭। পারভেজ খসরু লস্কর, লালা, হাইলাকান্দী।৬৮।সাবর্ণী পুরকায়স্থ,  করিমগঞ্জ, আসাম।৬৯। সুজিত দে, এরালিগুল, করিমগঞ্জ।৭০। এ এম শরীফ উদ্দিন লস্কর, গুমড়া, কাছাড়,৭১।ফারুক আহমেদ লস্কর, বাশকান্দী, শিলচর। ৭২। পিযূস কান্তি দাস, সেভ, শিলচর।৭৩। মকব্বীর আলী লস্কর, বাঁশকান্দী, শিলচর।৭৪। আনিন্দীতা কর, ছাত্রী, শিলচর।৭৫।হিয়া দাস,নাট্যশিল্পী,  শিলচর। ৭৬। শ্বাসত্ব পুরকায়স্থ, করিমগঞ্জ। ৭৭। সৌমদীপ রয় চৌধুরী, শিলং। ৭৮। সঞ্জিব দাস, শিলচর।  ৭৯। অরিত্র বাবাই ধর, শিলচর।৮০। জয় রয়, উধারবন্ধ। ৮১। প্রীয়াংকা মৌলি গুহ, আলিপুর দুয়ার। ৮২। নাসমিন চৌধুরী, সোনাই, অসম। ৮৩। ফয়েজ আহমেদ , হাইলাকান্দি। ৮৪। পিয়া দাস, শিলচর। ৮৫। মাশুক আহমেদ মজুমদার, বড়খোলা। ৮৬। আনন্দ রয়, শিলচর।  ৮৭। সামসুল হক বড়ভূইয়া, হাইলাকান্দি।        ৮৮। যুথিকা দাস, কবি, শিলচর।  ৮৯। গোপাল চৌধুরী, কবি।৯০। জাহানারা মজুমদার, কবি, শিলচর।      ৯১। শহিদুল হক, সমাজকর্মী, করিমগঞ্জ।  ৯২। সুবীর ভট্টাচার্য, সাঙ্গস্কৃতিক কর্মী, শিলচর। ৯৩। বিজিত কুমার সিনহা, শিলচর। ৯৪। আব্দুল হালিম লস্কর, উধারবন্ধ।৯৫।  সাদীক মোহাম্মদ লস্কর, বাঁশকান্দী।  ৯৬। মিঠু বিশ্বাস, রিসার্চ ফিলো, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়।  ৯৭। জগদীশ চৌধুরী, এন এস এভিনিউ, শিলচর।   ৯৮। মস্তাক লস্কর, লালা, হাইলাকান্দি। ৯৯। বিজয় কুমার ভট্টাচার্য, কবি-সাংবাদিক। ১০০। টিংকু খান্না, কলকাতা।